বানান (ষষ্ঠ অধ্যায়)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ক. ব্যাকরণ | NCTB BOOK
3.8k
Summary

বানান মানে হলো 'বর্ণন' বা বর্ণনা করা। এটি লেখায় স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের সঠিক সংমিশ্রণ বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ: স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ (আম), ব্যঞ্জনবর্ণ স্বরবর্ণ (মা), এবং ব্যঞ্জনবর্ণ + স্বরবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ (কষ্ট)।

বানান শিখতে গেলে কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে: সব ভাষায় ধ্বনি অনুসারে বানান লেখার পূর্ণ নিয়ম নেই। আমাদের ভাষায় সব বর্ণ সব ধ্বনির প্রতিনিধিত্ব করে না, তবে এগুলি লিখনপদ্ধতির অংশ।

সঠিক বানান লেখার জন্য জানতে হবে কোথায় দীর্ঘস্বর, চন্দ্রবিন্দু, নৃ, ণ্‌, শ্ স্য, বিসর্গ, এবং অন্যান্য ধ্বনির স্থান রয়েছে। এসবের জ্ঞান ছাড়া বানান ভুল হবে।

বানান বলতে বোঝায় 'বর্ণন' বা বর্ণনা করা। অন্যভাবে বলা যায়, বানান হলো বুঝিয়ে বলা। লিখিত ভাষায় এই বলা দ্বারা স্বরবর্ণের পর স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণের পর ব্যঞ্জনবর্ণ অথবা স্বরবর্ণের পর ব্যঞ্জনবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের পর স্বরবর্ণ যোগ করাকে বোঝায়। যেমন- স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ: আম; ব্যঞ্জনবর্ণ স্বরবর্ণ: মা (ম্ + আ); ব্যঞ্জনবর্ণ + স্বরবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ: কষ্ট (ক্+অ+ষ্‌+ট্)।

বানান শিখতে বা লিখতে গেলে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, পরিপূর্ণভাবে ধ্বনি অনুযায়ী বানান লেখার নিয়ম বিশ্বের কোনো ভাষায় নেই। ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আমরা দেখেছি যে, আমাদের ভাষায় সব বর্ণ সব ধ্বনির প্রতিনিধিত্ব করে না। কিন্তু সব বর্ণই আমাদের লিখনপদ্ধতির আশ্রয়। আমাদের জানতে হবে কোথায় দীর্ঘস্বর (ঈ, ঊ), চন্দ্রবিন্দু (), কোথায় নৃ, কোথায় ণ্‌, কোথায় শ্ স্য, কোথায় বিসর্গ (ঃ), কোথায় ঙ, ঞ, ং, ক্ষ, খ, ঙ্গ, জঙ্ক্ষ, ত, ৎ, ক্ষ ইত্যাদি বসবে। এসবের ব্যবহার না জানলে বানান ভুল হবে।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

স্বেচ্ছাচারিতার জন্য
বিক্ষিপ্ত মনোভাবের জন্য
দায়িত্বহীনতার জন্য
নিজের মতো বানান ব্যবহার করত বলে

বানানের ধারণা (৬.১)

466

এমন এক সময় ছিল যখন বাংলা বানানের নিয়মের প্রতি কারো আগ্রহ ছিল না। এ-অবস্থায় ব্যক্তি নিজের মতো করে বানান ব্যবহার করত। এতে বানানের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, শুরু হয় বাংলা বানানে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা। বাংলা ভাষায় বিভিন্ন উৎস থেকে শব্দ এসেছে, যেমন- সংস্কৃত, আরবি-ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি। বাংলায় আগত শব্দগুলোর মূল উচ্চারণ এবং বাংলা ভাষার ধ্বনিব্যবস্থা অনুসারে সেগুলো লেখার প্রেরণা থেকেই উদ্ভাবিত হয় বাংলা বানানের নিয়ম। এক্ষেত্রে প্রথম প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয় 'বাংলা' শব্দের বানানের নিয়ম। পরবর্তীকালে বাংলা বানানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগী হয়েছে। আমাদের দেশে বাংলাদেশ টেকস্ট বুক বোর্ড, বাংলা একাডেমি বানানরীতি তৈরি করেছে। পরবর্তীতে টেকস্ট বুক বোর্ড ও বাংলা একাডেমির বানানরীতি এক হয়েছে। বাংলা একাডেমির বানানরীতি এখন সর্বত্র মানা হচ্ছে।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

মূল উচ্চারণ ও ধ্বনিব্যবস্থা অনুসারে
উৎস বা ব্যুৎপত্তি অনুসারে
মূল অর্থ ও ধ্বনিব্যবস্থা অনুসারে
দেশি-বিদেশি শব্দ অনুসারে
আরবি-ফারসি, সংস্কৃত
সংস্কৃত, আরবি-ফারসি, ইংরেজি
সংস্কৃত, ইংরেজি
ইংরেজি, আরবি-ফারসি
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলা একাডেমি
বাংলাদেশ টেকস্ট বুক বোর্ড
বাঙলা শব্দের বানানের নিয়ম
বাঙ্গলা শব্দের বানানের নিয়ম
বাঙ্গাল শব্দের বানানের নিয়ম
বাঙ্গালা শব্দের বানানের নিয়ম

বানানের নিয়ম (৬.২)

878

নিচে বাংলা বানানের কিছু নিয়ম উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হলো:
১. বিদেশি শব্দের (ইংরেজি, আরবি-ফারসি ও অন্যান্য ভাষার শব্দ) বানানে সব সময় হ্রস্ব ই বা ই-কার (ি) হবে। যেমন- জাফরানি, মিশনারি, ফিরিস্তি, উর্দি, বনেদি প্রভৃতি।
২. বাংলা শব্দের বানানে সব সময় হ্রস্ব ই বা ই-কার (ি) হবে। যেমন- ডুলি, হাঁড়ি, বাঁশি, চাঙারি প্রভৃতি।
৩. ভাষা ও জাতিবাচক শব্দের শেষে হ্রস্ব ই-কার হবে। যেমন- বাঙালি, ইংরেজি, ইরানি, পাঞ্জাবি, ইরাকি, পাকিস্তানি, জাপানি প্রভৃতি।
৪. ইংরেজি শব্দে a-উচ্চারণ যেখানে অ্যা সেখানে-এর জন্য অ্যা, s-এর উচ্চারণ যেখানে দন্তমূলীয় স্ সেখানে s-এর জন্য স, যেখানে শ এর জন্য sh এবং st-এর জন্য স্ট হবে। যেমন- অ্যাডভোকেট, অ্যাটোর্নি, বাস, সুগার, আর্টিস্ট, স্টেশন, স্টোর প্রভৃতি।

৫. সংস্কৃত বা তৎসম শব্দে 'র'-এর পরে 'ণ' (মূর্ধন্য-ণ) হবে। যেমন- চরণ, কারণ, রণ, মরণ, অনুসরণ প্রভৃতি।
৬. বাংলা শব্দে র-এর পর ন হবে। যেমন- ধরন।

Content added || updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ডুলি, চরণ
মরন, শানকী
গহিণ, বনেদী
আর্টিষ্ট, অণুসরন

অনুশীলনী

776

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

সঠিক উত্তরের পাশে টিকচিহ্ন (√) দাও:

১। বানান বলতে কী বোঝায়?
ক. বর্ণন
খ. বর্ণনা করা
গ. বর্ণিল
ঘ. বিশ্লেষণ

২। পরিপূর্ণভাবে ধ্বনি অনুযায়ী কোন নিয়ম বিশ্বের কোনো ভাষায় নেই?
ক. বানান লেখার নিয়ম
খ. ধ্বনির নিয়ম
গ. শব্দগঠনের নিয়ম
ঘ. ব্যাকরণের নিয়ম

৩। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বানানের উপর প্রকাশিত গ্রন্থের নাম কী?
ক. বাঙলা শব্দের বানানের নিয়ম
খ. বাঙ্গলা শব্দের বানানের নিয়ম
গ. বাঙ্গাল শব্দের বানানের নিয়ম
ঘ. বাঙ্গালা শব্দের বানানের নিয়ম

৪। 'বাঙ্গালা শব্দের বানানের নিয়ম' কখন প্রকাশিত হয়?
ক. ১৯৩৫
খ. ১৯৩৬
গ. ১৯৩৭
ঘ. ১৯৩৮

৫। বাংলাদেশে যে প্রতিষ্ঠানগুলো বানানরীতি তৈরি করেছে সেগুলো হলো-
i. বাংলাদেশ টেকস্ট বুক বোর্ড
ii. বাংলা একাডেমি
iii. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii

৬। বিদেশি শব্দের বানানে সব সময় কী হবে?
ক. ণ
খ. ই বা ই-কার
গ. ষ
ঘ. ঈ বা ঈ-কার

৭। জাতিবাচক শব্দে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
ক. দীর্ঘ ঈ-কার
খ. হ্রস্ব ই-কার
গ. হ্রস্ব উ-কার
ঘ. কোনোটি নয়

৮। কোন বানানগুলো ঠিক?
ক. ডুলি, চরণ
খ. মরন, শানকী
গ. গহিণ, বনেদী
ঘ. আর্টিষ্ট, অণুসরন

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...